
খুলনার ঐতিহ্যবাহী দৌলতপুর থানার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত দৌলতপুর মুহসীন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এই অঞ্চলের নারী শিক্ষার প্রসার, সামাজিক উন্নয়ন ও নারী জাগরণে এক ঐতিহাসিক আলোকবর্তিকা। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে, যখন এই অঞ্চলে মেয়েদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত ছিল, তখন একদল দূরদর্শী ও সমাজহিতৈষী ব্যক্তিত্বের হাত ধরে এই গৌরবান্বিত বিদ্যাপীঠের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়।
বিংশ শতাব্দীর তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় নারী সমাজ যখন প্রথাগত গণ্ডির মধ্যে অবরুদ্ধ এবং শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ছিল, ঠিক সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়ে এই অঞ্চলের নারীদের আলোর পথ দেখাতে এগিয়ে আসেন পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষা অনুরাগী ব্যক্তিত্ব জয়নুল আবেদীন।
নারী সমাজকে দক্ষ, শিক্ষিত ও আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলার এক মহান ব্রত নিয়ে তিনি স্থানীয় সুধীজন ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গকে সাথে নিয়ে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। উপমহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর হাজী মুহাম্মদ মুহসীনের স্মৃতি ও শিক্ষার প্রতি তাঁর অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং এই অঞ্চলের নারী শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয় "দৌলতপুর মুহসীন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়"।
বিদ্যালয়টির যাত্রালগ্ন মোটেও সহজ ছিল না। তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের নানামুখী সামাজিক বাধা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং অবকাঠামোগত প্রতিকূলতা জয় করতে হয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা জয়নুল আবেদীন মহোদয় নিজের মেধা, শ্রম ও অর্থ উজাড় করে দিয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে অভিভাবকদের বুঝাতেন এবং বালিকাদের বিদ্যালয়ে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন।
শুরুতে অত্যন্ত সীমিত সংখ্যক ছাত্রী এবং টিনশেড বা অস্থায়ী একটি কাঠামোতে পাঠদান শুরু হলেও, ধীরে ধীরে বিদ্যালয়টির সুনামের কারণে ছাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে সরকারি-বেসরকারি অনুদান, পরিচালনা পর্ষদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং স্থানীয় জনগণের আন্তরিক সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক অবয়ব লাভ করে।
সময়ের আবর্তনে বিদ্যালয়টি আজ এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এখানে আধুনিক বহুতল ভবন, সুসজ্জিত বিজ্ঞানাগার, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি এবং তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়া সংবলিত "শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব" রয়েছে।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানটি হাজার হাজার ছাত্রীকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলেছে। এখানকার প্রাক্তন ছাত্রীরা আজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও চিকিৎসা, প্রকৌশল, শিক্ষা, প্রশাসন ও ডিফেন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুনামের সাথে অবদান রাখছেন।
আজকের দৌলতপুর মুহসীন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় তার গৌরবময় অতীতকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। শ্রদ্ধেয় প্রতিষ্ঠাতা জয়নুল আবেদীন যে ত্যাগের মধ্য দিয়ে এই আলোর প্রদীপটি জ্বালিয়েছিলেন, সেই আদর্শকে বুকে ধারণ করে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকমণ্ডলী প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক এবং "স্মার্ট বাংলাদেশ"-এর উপযোগী একটি আদর্শ বিদ্যাপীঠ হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যেতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
Feb4 2026 | একাদশ, দ্বাদশ ও স্নাতক শ্রেণির নতুন ক্লাস রুটিন : জুন ২০২২। ৩০ মে ২০২২ তারিখ থেকে কার্যকর। |