
আমাদের শ্রদ্ধেয় প্রতিষ্ঠাতা: আলহাজ্ব জয়নুল আবেদীন
একটি সমাজ তথা জাতিকে উন্নত ও প্রগতিশীল করতে হলে নারী শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই—এই চিরন্তন সত্যটি যিনি বহু বছর আগে গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন, তিনি হলেন আমাদের বিদ্যালয়ের পরম শ্রদ্ধেয় প্রতিষ্ঠাতা জয়নুল আবেদীন। তৎকালীন সময়ে যখন অবহেলার কারণে নারী সমাজ শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ছিল এবং নারীদের প্রথাগত গণ্ডির বাইরে বের হওয়া কঠিন ছিল, ঠিক সেই প্রতিকূল মুহূর্তে তিনি এই অঞ্চলে নারী জাগরণের এক ঐতিহাসিক মশাল জ্বালানোর সিদ্ধান্ত নেন।
শিক্ষা অনুরাগী ও দূরদর্শী এই মহান ব্যক্তিত্বের অক্লান্ত পরিশ্রম, নিঃস্বার্থ ত্যাগ এবং আন্তরিক প্রচেষ্টার ফসল আজকের এই দৌলতপুর মুহসীন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। তিনি কেবল একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেননি, বরং এই অঞ্চলের অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজে আলো ছড়ানোর একটি স্থায়ী সুতিকাগার তৈরি করে গেছেন। নিজের মেধা, শ্রম এবং সামাজিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি প্রতিকূল সমাজব্যবস্থার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এই বিদ্যাপীঠের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
বিদ্যালয়ের প্রাথমিক দিনগুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষক সংগ্রহ এবং ঘরে ঘরে গিয়ে অভিভাবকদের বুঝিয়ে বালিকাদের বিদ্যালয়ে নিয়ে আসার পেছনে তাঁর অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাঁর স্বপ্ন ছিল এমন একটি আধুনিক ও সুশৃঙ্খল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যেখানে ছাত্রীরা শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে না, বরং নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও আত্মনির্ভরশীলতায় বলীয়ান হয়ে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে দেশের কল্যাণে কাজ করবে।
আজ তাঁর রোপণ করা সেই চারাগাছটি বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে এবং হাজার হাজার নারী এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কৃতিত্বের সাথে অবদান রাখছেন। প্রতিষ্ঠাতা জয়নুল আবেদীন মহোদয়ের সেই মহান আদর্শ, দূরদর্শিতা ও স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে আজ আমরা বিদ্যালয়টিকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। এই মহান শিক্ষাব্রতীর পবিত্র স্মৃতির প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
